মেদিনীপুর শহরের নন্দীবাড়ির প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন পুজো এবার হবে ঘটে
দি নিউজ লায়ন ; ৪০৮ বছরের পরম্পরায় ছেদ। মেদিনীপুর শহরের অন্যতম প্রাচীন নন্দীবাড়ির দুর্গাপুজোয় এবছর থাকছেনা প্রতিমা। পুজো হবে ঘটে, অত্যন্ত অনাড়ম্বরভাবে। মেদিনীপুর শহরের চিড়িমারসাইয়ের ৪০৮ বছরেরও বেশি পুরনো নন্দীবাড়ির পূজা হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে।
ষষ্ঠীতে বোধন , সপ্তমীতে শহরের কংসাবতী নদীতে কলাবউ স্নান আর অষ্টমীতে বিশেষ শঙ্খ বাজিয়ে মায়ের আরাধনা , নবমীতে কুমারী পূজা, দশমীতে সিঁদুর খেলার মাধ্যমে মায়ের বিদায়। বিসর্জন এর নিয়ম কাঁধে করে মায়ের প্রতিমা নিয়ে গিয়ে নদীতে বিসর্জন এভাবেই চলে যাচ্ছিল দীর্ঘ বছরের পুরানো এই নন্দীবাড়ির পূজা, কিন্তু যার ছন্দ পতন ঘটল এবছর। নন্দী পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরে করোনা আবহে তারা পুজোর আয়োজন করতে পারছেন না। পরিবারের অনেক সদস্য বিদেশে থাকেন তাদের পক্ষে এ বছর দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি।
তাছাড়া পুজো উপলক্ষে নন্দী বাড়িতে প্রচুর জনসমাগম হয়। মেদিনীপুর শহর তো বটেই গোটা জেলা এবং জেলার বাইরে থেকেও প্রচুর মানুষ ভিড় করেন। তাই করোনা আবহে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে চলতি বছরে দেবীপ্রতিমা এনে চিরাচরিত রীতি মেনে পুজো করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের পক্ষে। ঘট প্রতিষ্ঠা করে পুজো হবে। পুজোর ক্ষেত্রে সমস্ত রকম রীতিনীতি মেনে চলা হবে। যদিও কোনো রকম আড়ম্বর হচ্ছে না এবারের পুজোয়।
আগামী বছর মহামারীর প্রকোপ থেকে মুক্ত হয়ে আরো বড় করে পুজোর আয়োজন করা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে শতাব্দীপ্রাচীন রীতিতে ছেদ পড়ায় মন ভালো নেই নন্দী পরিবারের একইরকমভাবে মন খারাপ মেদিনীপুর শহরেরও।

Post a Comment